মহাবিশ্ব
মহাবিশ্ব বা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড হলো স্থান ও কালের সমষ্টি এবং এর ভেতরে থাকা সব পদার্থ, শক্তি, নক্ষত্র, ছায়াপথ ও ভৌত নিয়মের সমন্বয়। বর্তমান বৈজ্ঞানিক ধারণা অনুযায়ী, মহাবিশ্বের জন্ম হয়েছে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে একটি বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে, যাকে বিগ ব্যাং বলা হয়। সেই সময় থেকেই মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে।
আমরা যে অংশটি পর্যবেক্ষণ করতে পারি, তাকে পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্ব বলা হয়, যার ব্যাস প্রায় ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। মহাবিশ্বের মোট আকার ঠিক কত বড়, তা এখনও অজানা।
মহাবিশ্বের উপাদানগুলো হলো—
ডার্ক এনার্জি (≈ ৬৮%): মহাবিশ্বের প্রসারণকে ত্বরান্বিত করে
ডার্ক ম্যাটার (≈ ২৭%): অদৃশ্য পদার্থ, যা মহাকর্ষীয় প্রভাব ফেলে
সাধারণ পদার্থ (≈ ৫%): তারা, গ্রহ, গ্যাস, আমরা যা দেখতে পাই
মহাবিশ্বে রয়েছে শত শত বিলিয়ন ছায়াপথ, প্রতিটিতে কোটি কোটি নক্ষত্র। আমাদের সূর্য একটি সাধারণ নক্ষত্র, যা আকাশগঙ্গা ছায়াপথের অংশ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy)
জ্যোতির্বিজ্ঞান বিজ্ঞানের এমন একটি শাখা যাতে মহাবিশ্বে অবস্থিত সকল বিচ্ছিন্ন এবং অবিচ্ছিন্ন বস্তসমূহের উৎপত্তি, বিবর্তন, গঠন, দূরত্ব এবং গতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। অর্থাৎ জ্যোতির্বিজ্ঞান মাহাবিশ্বে ভ্রাম্যমাণ জ্যোতিষ্ক বিষয়ক বিজ্ঞান। জ্যোতিষ্কসমূহের ইংরেজি নাম Heavenly bodies বা Astronomical bodies বা স্বর্গীয় বস্তু। প্রাচীনকালে মানুষেরা আকাশকেই স্বর্গ মনে করতো, তাই আকাশে বিদ্যমান সববস্তুকে স্বর্গীয় বস্তু বলতো। জ্যোতির্বিজ্ঞান আর জ্যোতিষশাস্ত্র এক নয়। জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের বলা হয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী (Astronomer) আর জ্যোতিষশাস্ত্রবিশারদকে বলে জ্যোতিষী (Astrologer) বলে।
জ্যোতির্বিদ (Astronomer)
টলেমি
টলেমি (Ptolemy) ৯০ খ্রিস্টাব্দে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত রোমান গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'Almagest' |
গ্যালিলিও
গ্যালিলিও ছিলেন একজন ইতালীয় পদার্থবিদ, জ্যোর্তিবিদ এবং গণিতবিদ। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে রয়েছে দূরবীক্ষণ যন্ত্রের উন্নতি সাধন যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। গ্যালিলিও কে 'আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক' বলা হয়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আইনস্টাইন
নিউটন
জর্জ লেমেটার
স্টিফেন হকিং
গ্যালিলিও
স্টিফেন হকিং
আইজ্যাক নিউটন
মাইকেল ফ্যারাডে
বিশ্বতত্ত্ব বা ভৌত সৃষ্টিতত্ত্ব হল জ্যোতিঃপদার্থবিদ্যার একটি শাখা, যা দিয়ে মূলত মহাবিশ্বের বৃহদাকার কাঠামো, এর গঠন এবং বিবর্তন সম্পর্কিত মৌলিক প্রশ্নের অধ্যয়ন করা হয়। আধুনিক ভৌত সৃষ্টিতত্ত্বের শুরু হয় বিংশ শতাব্দীতে, মূলত আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্ব এবং দূরবর্তী মহাজাগতিক বস্তুসমূহের উন্নততর ভৌত পর্যবেক্ষণের ব্যাপক উন্নতিসাধনের সঙ্গে।
মহাবিস্ফোরণ (Big bang)
১৫ শত কোটি বৎসর পূর্বে মহাবিশ্বের সমস্ত বস্তু সংকুচিত অবস্থায় একটি বিন্দুর মত ছিল ঠিক যেন একটি অতি-পরমাণু (Superatom)। আজ থেকে ১৫ শত কোটি বৎসর পূর্বে এই অতি-পরমাণুর মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটে, পুঞ্জ পুঞ্জ বস্তু চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছুটতে থাকে। এসব পুঞ্জ থেকেই তৈরি হয়েছে ছায়াপথ, গ্রহ, উপগ্রহ ইত্যাদি। আদি এই বিস্ফোরণকে বলা হয় 'বিগ ব্যাঙ' - বাংলায় একে বলা যেতে পারে "মহাবিস্ফোরণ” বা "বৃহৎ বিস্ফোরণ”। বেলজিয়ামের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জি, লেমেটার (G. Lemaitre) 'বিগ ব্যাঙ' তত্ত্বের প্রবক্তা। বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "A Brief History of Time" পদার্থবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে 'বিগ ব্যাঙ' এর ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
জ্যোতিষ্কমণ্ডলী (Luminaries)
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যাবতীয় বস্তু শক্তি যে অঞ্চলে ভাসমান অবস্থায় বিন্যস্ত তার নাম মহাকাশ। মহাকাশে রয়েছে নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ, ধূমকেতু, ছায়াপথ, উল্কা, নীহারিকা, পালসার, কৃষ্ণবামন, কৃষ্ণগহবর প্রভৃ তি। এগুলোকে জ্যোতিষ্ক বলে। জ্যোতিষ্ক ৭ প্রকার। যথা নক্ষত্র, নীহারিকা, গ্রহ, উপগ্রহ, ধূমকেতু, ছায়াপথ এবং উল্কা।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সৌরজগৎ
ধূমকেতু
মিল্কিওয়ে
গ্যালাক্সি
ছায়াপথ (Milky Way)
মহাকাশে কোটি কোটি নক্ষত্র, ধূলিকণা এবং বিশাল বাষ্পকুণ্ড নিয়ে জ্যোতিষ্কমণ্ডলীর যে দল সৃষ্টি হয়েছে, তাকে গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ বলে। মহাকাশে অসংখ্য গ্যালাক্সি রয়েছে। একটি গ্যালাক্সির ক্ষুদ্র অংশকে ছায়াপথ (Milky Way) বলে। রাতের অন্ধকার আকাশে উত্তর-দক্ষিণে উজ্জ্বল দীপ্ত দীর্ঘপথের মত যে তারকারাশি দেখা যায় তাই ছায়াপথ। একটি ছায়াপথ লক্ষ কোটি নক্ষত্রের সমষ্টি। কোনো ছায়াপথ তার নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে একবার ঘুরে আসতে যে সময়ের প্রয়োজন হয়, তাকে কসমিক ইয়ার বলে। আমাদের ছায়াপথের কসমিক ইয়ার হলো ২০ কোটি আলোকবর্ষ। পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের ছায়াপথের নাম ম্যাজিলানিক ক্লাউডস। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব ২ লক্ষ আলোকবর্ষ।
সৌরজগতের গ্রহ
সূর্যের ৮টি গ্রহ আছে। সূর্য হতে দূরত্ব অনুযায়ী গ্রহগুলো যেভাবে সাজানো রয়েছে সেগুলো নিচে বর্ণনা করা হল। যথা- বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুন। ২০০৬ সালের ২৪ আগস্ট প্লটো মর্যাদা হারায়। প্লটোকে বর্তমানে ‘বামন গ্রহ’ (dwarf planet) এর মর্যাদা দেওয়া হয়। বর্তমানে সৌরজগতের পাঁচটি বামন গ্রহ আছে। যথা- সেরেস, প্লুটো, হাউমিয়া, মেকমেক এবং এরিস। পৃথিবী ছাড়া সৌরজগতের অন্যান্য সকল গ্রহ, এবং, উপগ্রহের নাম গ্রিক যা রোমনি দেবতার নাম হতে নেওয়া হয়েছে।
গ্রহ (planet)
মহাকর্ষ বলের প্রভাবে মহাকাশে কতকগুলো জ্যোতিষ্ক সূর্যের চারিদিকে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পথে পরিক্রমণ করে। এদের নিজেদের কোনো আলো বা তাপ নেই। এরা নক্ষত্র থেকে আলো এবং তাপ পায়। এরা তারার মত মিটমিট করে জ্বলে না। এ সব জ্যোতিষ্ককে গ্রহ বলে। যেমন: পৃথিবী সৌরজগতের একটি গ্রহ।
বুধ: বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং দ্রুততম গ্রহ। এটি সবচেয়ে কম সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। সূর্যকে এর প্রদক্ষিণ করে আসতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন।
শুক্র: সৌরজগতের উষ্ণতম গ্রহ শুক্র। শুক্রগ্রহে কার্বন-ডাই অক্সাইডের ঘন বায়ুমণ্ডল থাকায় তা তাপ ধরে রাখে পক্ষান্তরে বুধ গ্রহে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। এজন্য বুধ অপেক্ষা সূর্য হতে দূরবতী হওয়া সত্ত্বেও শুক্র গ্রহের তাপমাত্রা অধিক। শুকতারা ও সন্ধ্যাতারার কথা আমরা শুনেছি। শুকতারা বা সন্ধ্যা তারা আসলে কোনো তারা নয়। শুক্রগ্রহ ভোরের আকাশ শুকতারা এবং সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যা তারা নাামে পরিচিত। নক্ষত্রের মতে জ্বলজ্বল করে বলেই আমরা একে ভুল করে তারা বলি। পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ শুক্র। একে পৃথিবীর ‘জমজ গ্রহ’ বলা হয়।পৃথিবী: পৃথিবী একটি অভিগত গোলক। অভিগত গোলক অর্থ উত্তর দক্ষিণে সামান্য চাপা এবং পূর্ব-পশ্চিমে সামান্য স্ফীত। আহ্নিক গতির জন্য পৃথিবীর আকৃতি এরূপ হয়েছে। পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র সূর্য। সূর্যের চারিদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্দ্র। পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব ৯৩ মিলিয়ন মাইল বা ১৫ কোটি কি.মি.। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮.৩২ মিনিট বা ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড বা ৫০০ সে.।
মঙ্গল: মঙ্গল গ্রহের মাটিতে প্রচুর পরিমাণে লাল আয়রন অক্সাইড (যাকে মরিচা বলা হয়) বিদ্যমান। পৃথিবী থেকে এই গ্রহটি দেখতে লালচে দেখায়। এজন্য মঙ্গলকে অনেক সময় ‘লাল গ্রহ’ বলেও অভিহিত করা হয়। গ্রহের বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান কার্বন ডাই-অক্সাইড (৯৫.৯৭%)। গ্রহটি সূর্যকে ৬৮৭ দিনে আবর্তন করে।
বৃহস্পতি: সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ। সবচেয়ে বড় গ্রহ বলে একে ‘গ্রহরাজ’’ বলা হয়। আয়তনে বৃহস্পতি পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়।
শনি: সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ। এটি গ্যাসের তৈরি বিশাল এক গোলক। শনিকে ঘিরে আছে হাজার হাজার বলয়।
ইউরেনাস: ইউরেনাস সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ। একে ‘সবুজ গ্রহ’ও কম হয়।
নেপচুন: সৌরজগতের গ্রহসমূহের মধ্যে সূর্যকে প্রদিক্ষণ করতে নেপচুনের সবচেয়ে বেশি সময় লাগে।
বামন গ্রহ (Dwarf planet)
বামন গ্রহ হলো সৌরজগতের এক ধরনের জ্যোতিষ্ক যা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন কর্তৃক সজ্ঞায়িত হয়েছে। এই সংজ্ঞাটি বর্তমানে কেবল সৌরজগতের জন্যই প্রযোজ্য। বামন গ্রহ হলো যাদের (১) ভর গ্রহের সমান কিন্তু গ্রহও নয়, উপগ্রহও নয় (২) সূর্যকে সরাসরি প্রদক্ষিণ করে, নিজস্ব আকৃতি পাবার মতো অভিকর্ষের মালিক (৩) কিন্তু কক্ষপথকে অন্যান্য বস্তু থেকে আলাদা বা স্বাতন্ত্র্য করতে পারেনি। ২০০৬ সালের ২৪ আগস্ট প্লুটো গ্রহের মর্যাদা হারায়। প্লুটোকে বর্তমানে 'বামন গ্রহ' (dwarf planet) এর মর্যাদা দেওয়া হয়। বর্তমানে সৌরজগতের পাঁচটি বামন গ্রহ আছে। যথা- প্লুটো (Pluto), সেরেস (Ceres), হাউমিয়া (Haumea), মেকমেক (Makemake) এবং এরিস (Eris)।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মঙ্গল
বুধ
বৃহস্পতি
শুক্র
উপগ্রহ (Satellite)
মহাকর্ষ বলের প্রভাবে যে জ্যোতিষ্ক বা বস্তু গ্রহকে ঘিরে আবর্তিত হয়, তাদের উপগ্রহ বলে। এদের নিজস্ব আলো ও তাপ নেই। উপগ্রহ দুই ধরনের, যথা- স্বাভবিক উপগ্রহ এবং কৃত্রিম উপগ্রহ। প্রাকৃ তিক কারণে সৃষ্ট উপগ্রহকে স্বাভবিক উপগ্রহ বলে। যেমন- চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র স্বাভবিক উপগ্রহ। মহাশূন্য পাড়ি দেওয়ার জন্য মানব সৃষ্ট উপগ্রহ কৃত্রিম উপগ্রহ বলে। 'স্যাটেলাইট' বলতে এখন কৃত্রিম উপগ্রহকেই বোঝায়। যেমন- স্পুটনিক-ও, ভস্টক-১ ইত্যাদি।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মঙ্গল
বুধ
বৃহস্পতি
শুক্র
২৭ দিন
২৮ দিন
২৯ দিন
৩০ দিন
ধূমকেতু (Comet)
মহাকাশে মাঝে মাঝে এক প্রকার জ্যোতিষ্কের আবির্ভাব ঘটে। এ সব জ্যোতিষ্ক কিছু দিনের জন্য উদয় হয়ে আবার অদৃশ্য হয়ে যায়। এ সব জ্যোতিষ্ককে ধূমকেতু বলা হয়। নক্ষত্রের চারপাশে দীর্ঘপথে এগুলো পরিভ্রমণ করে। সূর্যের নিকটবর্তী হলে প্রথমে অস্পষ্ট মেঘের আকারে দেখা যায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি যে ধূমকেতু আবিষ্কার করেন তা হ্যালির ধূমকেতু নামে পরিচিত। হ্যালির ধূমকেতু প্রায় ৭৫ বা ৭৬ বছর পরপর দেখা যায়। ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু সর্বশেষ দেখা গেছে। হ্যালির ধূমকেতু আবার দেখা যাবে (১৯৮৬ + ৭৬) = ২০৬২ সালে। একবিংশ শতাব্দীর প্রথম ধূমকেতু লাইনিয়ার। বিগত শতাব্দীর সবচেয়ে উজ্জ্বল ধূমকেতু 'হেলবপ'। জ্যোতির্বিজ্ঞানী এলান হেল ও টমাস বপ ১৯৯৫ সালে ২৩ জুলাই এই ধূমকেতুটি আবিষ্কার করেন।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
গ্যাস, পাথর ও পানি
গ্যাস, ধূলিকণা ও শিলা
পাথর, আগুন ও ধুলিকণা
পাথর, বরফ ও ধুলিকণা
৭৬ বছর
৬০ বছর
৫০ বছর
৪৫ বছর
উল্কা (Meteor)
মহাশূন্যে অজস্র 'জড়পিণ্ড ভেসে বেড়ায়। এই জড়পিগুলো মাধ্যাকর্ষণ বলের আকর্ষণে প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে। বায়ুর সংস্পর্শে এসে বায়ুর সংগে ঘর্ষণের ফলে এরা জ্বলে ওঠে। এগুলোকে উল্কা বলে। ধুমকেতুর সূর্যের কাছাকাছি এসে পড়লে এর প্রচণ্ড উত্তাপ এবং সৌরঝড়ের কারণে সম্মুখভাগ ও অন্তঃস্থল গলে গিয়ে পেছনের দিকে ধূমকেতুর লেজ-এ ছড়িয়ে পড়ে। এই 'লেজ'-এর মধ্যে থাকে অসংখ্য পাথরের টুকরো, ধূলিকণা ও গ্যাস। কোনো ধূমকেতুর অংশবিশেষ কক্ষপথ হতে বিচ্যুত হয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ঘর্ষণে জ্বলে ওঠলে তাকে উল্কা বৃষ্টি বলে। ১৬-২২ জুলাই, ১৯৯৪ ধুমকেতু শুমেকার লেভী-৯ কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে বৃহস্পতির কক্ষপথে চলে আসে এবং ১২টি খণ্ডে বিভক্ত হয়ে বৃহস্পতি গ্রহে আঘাত হানে।
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic ray)
মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চশক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে, তাদের সমষ্টিকে মহাজাগতিক রশ্মি বলে। বিজ্ঞানী ভিক্টর হেস মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ১৯৩৬ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান।
আলোক বর্ষ (Light Year)
জ্যোতির্বিদ্যায় দূরত্বের একক হিসেবে আলোক বর্ষ, পারসেক ব্যবহৃত হয়। শূন্যস্থানে আলো একবছর সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।
১ আলোকবর্ষ = ৯.৪৬১ ১০১২ কিলোমিটার
দূরত্বের সবচেয়ে বড় একক পারসেক। ১ পারসেক = ৩.২ আলোকবর্ষ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ক্লাস A
ক্লাস B
ক্লাস AB
ক্লাস C
সৌরজগৎ (Solar System)
সৌরজগৎ বলতে সূর্য ও মহাজাগতিক জ্যোতির্কবিষয়ক বস্তুসমূহকে বুঝায়। সূর্য এবং তার গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, অসংখ্য ধূমকেতু ও অগণিত উল্কা নিয়ে সৌরজগৎ বা সৌরপরিবার গঠিত হয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় অব্দে জ্যোতির্বিদ অ্যারিস্টর্কাস (Aristarchus) প্রথম প্রস্তাব করেন, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে পরিভ্রমণ করিতেছে কিন্তু অ্যারিস্টর্কাস এর কথা মানুষ বিশ্বাস করেনি। সূর্য সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত এবং পৃথিবী সূর্যের চতুর্দিকে পরিভ্রমণ করিতেছে' ষোড়শ শতাব্দীতে নিকোলাস কোপার্নিকাস (Nicolaus Copernicus) গাণিতিক মডেলসহ এ তত্ত্ব উপস্থাপন করেন যা Heliocentrism নামে পরিচিত।
সূর্য (Sun)
সূর্যের ব্যাস ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিমি. এবং ভর প্রায় ১.৯৯ ০১০১৩ কেজি। আয়তনে সূর্য পৃথিবীর চেয়ে ১৩ লক্ষ বা ১.৩ মিলিয়ন গুণ এবং চাঁদের চেয়ে ২ কোটি ৩০ লক্ষ গুণ বড়। সূর্য প্রচণ্ড রকম উত্তপ্ত একটি নক্ষত্র। এর কেন্দ্রভাগের উত্তাপ প্রায় ১৫০,০০০,০০০° সে. এবং পৃষ্ঠভাগের তাপমাত্রা প্রায় ৬,০০০° সে.। সূর্যের উপাদানসমূহের শতকরা সংযুক্তি: হাইড্রোজেন ৯১.২%, হিলিয়াম ৮.৭% ও অন্যান্য ০.১%। সূর্যের নিজ অক্ষের উপর এক বার আবর্তন করতে ২৫ দিন সময় লাগে। একে সূর্যের আবর্তনকাল বলে। সূর্যপৃষ্ঠের যে সব স্থানের তাপমাত্রা এর পাশ্ববর্তী স্থান অপেক্ষা কম, পৃথিবী থেকে সে স্থানগুলো কালো দেখায়, তাদের সৌরকলঙ্ক বলে। সৌর কলঙ্কগুলোকে সর্বপ্রথম গ্যালিলিও আবিষ্কার করেন। সৌর ঝলক হল সূর্য থেকে উৎক্ষিপ্ত চার্জযুক্ত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম। সূর্য সাধারণত প্রতি ৩-৪ বছরে একবার কয়েকটন পরিমাণ চার্জযুক্ত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম আলোর ঝলকানিসহ মহাশূন্যে ছুঁড়ে দেয় যা ৫ কোটি কিমি. জুড়ে বিস্তৃত হয়। সৌর ঝলকের কারণে পৃথিবীতে বেশকিছু সমস্যা বিশেষ করে চৌম্বক ক্ষেত্রে অস্থিরতা দেখা দেয়। ফলশ্রুতিতে টেলিফোন সংযোগ এবং ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।
সৌরজগতের গ্রহ
সূর্যের ৮টি গ্রহ আছে। সূর্য হতে দূরত্ব অনুযায়ী গ্রহগুলো যেভাবে সাজানো রয়েছে সেগুলো নিচে বর্ণনা করা হল। যথা-
| 1 | বুধ (Mercury) | রোমান বাণিজ্য দেবতার নামানুসারে |
| 2 | শুক্র (Venus) | রোমান ভালবাসা এবং সৌন্দর্যের দেবীর নামানুসারে |
| 3 | পৃথিবী (Earth) | পৃথিবী ছাড়া সৌরজগতের অন্যান্য সকল গ্রহ এবং উপগ্রহের নাম গ্রিক যা রোমান দেবতার নাম হতে নেওয়া হয়েছে |
| 4 | মঙ্গল (Mars) | রোমান যুদ্ধদেবতার নামানুসারে |
| 5 | বৃহস্পতি (Jupiter) | রোমান দেবতাদের রাজার নামানুসারে |
| 6 | শনি (Saturn) | রোমান কৃষি দেবতার নামানুসারে |
| 7 | ইউরেনাস (Uranus) | রোমান স্বর্গের দেবতার নামানুসারে |
| 8 | নেপচুন (Neptune) | রোমান সমুদ্র দেবতার নামানুসারে |
সৌরজগতের উপগ্রহ
সৌরজগতের সর্বমোট ৪৯ টি উপগ্রহ আছে। শনির সর্বাধিক ২২টি উপগ্রহ আছে। বুধ ও শুক্রের কোন উপগ্রহ নেই। পৃথিবীর ১টি, মঙ্গলের ২টি, বৃহস্পতির ১৬টি, ইউরেনাসের ৫টি, নেপচুনের ২টি এবং প্লুটোর ১টি উপগ্রহ রয়েছে। সৌরজগতের সবচেয়ে বড় উপগ্রহ বৃহস্পতির গ্যানিমেড এবং সবচেয়ে ছোট উপগ্রহ বৃহস্পতির লেডা।
গ্রহ | উপগ্রহ |
| পৃথিবী | পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহের নাম চাঁদ। পৃথিবী হতে চাঁদের দূরত্ব গড়ে ২,৩৮,৪৩৭মাইল বা ৩,৮১,৫০০ কিমি.। আলোর গতিতে চললে পৃথিবী থেকে চাঁদে পৌছাতে প্রায় ১.৩ সেকেন্ড সময় লাগবে। আয়তন এবং ব্যাসে পৃথিবী চাঁদের চেয়ে যথা-ক্রমে ৫০ গুণ এবং ৪ গুণ বড়। পৃথিবীর চারদিকে চাঁদের একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে ২৭ দিন ৮ ঘণ্টা। শান্ত সাগর চাঁদে অবস্থিত। |
| মঙ্গল | উপগ্রহগুলোর ফোবোস এবং ডিমোস। |
| বৃহস্পতি | উপগ্রহগুলোর মধ্যে লো, ইউরোপা, গ্যানিমেড ও ক্যালিস্টো প্রধান। |
| শনি | শনির প্রধান উপগ্রহ টাইটান, হুয়া, ডাইওন, ক্যাপিটাস, টেথ্রিস। |
| ইউরেনাস | উপগ্রহগুলোর নাম - মিরিন্ডা, এরিয়েল, আম্রিয়েল, টাইটানিয়া এবং ওবেরন। |
| নেপচুন | উপগ্রহগুলোর নাম ট্রাইটন ও নেরাইড। |
| প্লুটো | উপগ্রহের নাম ক্যারন। |
উপগ্রহগুলোর আকারের ক্রম: গ্যানিমেড > টাইটান > ক্যালিস্টা > লো > চাঁদ > ...... > লেডা।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
সূর্যগ্রহণ
চাঁদ যখন পরিভ্রমণরত অবস্থায় কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর কোন দর্শকের কাছে সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায় (কিছু সময়ের জন্য)। এই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বলা হয়। অমাবস্যার পরে নতুন চাঁদ উঠার সময় এ ঘটনা ঘটে। পৃথিবীতে প্রতি বছর অন্তত দুই থেকে পাচঁটি সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে শূন্য থেকে দুইটি সূর্যগ্রহণ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হয় ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
চন্দ্রগ্রহণ
আমরা সবাই জানি, চাঁদ যেমন পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে তেমন পৃথিবীও সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এইভাবে একটা সময় চাঁদ, সূর্য, পৃথিবী ঘুরতে ঘুরতে এক সরলরেখায় আসে।যখন এই সরলরেখায় পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের মধ্যে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়ার জন্য চাঁদে সূর্যের আলো পৌঁছায় না, ফলে চাঁদকে তখন কিছু সময়ের জন্য দেখা যায় না। অর্থাৎ পৃথিবী পৃষ্ঠের কোন দর্শকের কাছে চাঁদ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে কিছু সময়ের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায়। তখন একে সংক্ষেপে চন্দ্রগ্রহণ বলে।
এই সময় পৃথিবী, সূর্যকে আংশিক ঢেকে নিলে পৃথিবীর জন্য চাঁদকে আংশিক দেখা যায় না একে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ বলে। আর পৃথিবী সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে নিলে পৃথিবীর জন্য চাঁদকে পুরোপুরি দেখা যায় না একে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ বলে। চাঁদের তুলনায় পৃথিবীর ব্যাস অনেক বেশি হওয়ায়, পৃথিবীর ঐ ব্যাসের পথ অতিক্রম করতে চাঁদের অনেকটা সময় লাগে। এই জন্য সূর্যগ্রহনের স্থায়ীত্ত্ব কয়েক মিনিট হলেও চন্দ্রগ্রহণের স্থায়ীত্ত্ব ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কৃত্রিম উপগ্রহের মহাকাশ যাত্রার ইতিহাস
স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহের আবিষ্কার ও মহাকাশ যাত্রার ইতিহাস খুব একটা পুরোনো নয়। ষাটের দশকে প্রথমবারের মতো এ গৌরব অর্জন করে তৎকালিন সোভিয়েত ইউনিয়ন। পরের বছর যুক্তরাষ্ট্রও মহাকাশের উদ্দেশ্যে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে সক্ষম হয়। এরপর একে একে ফ্রান্স, জাপান, চীন ও ভারতসহ ৫৬টি দেশ মহাকাশ জয় করে১৯৫৭ সালের চৌঠা অক্টোবর। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মহাকাশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে স্যাটেলাইট স্পুটনিক- ১। রাশিয়ার তৈরি এ কৃত্রিম উপগ্রহের মহাকাশ জয়ের মধ্যদিয়ে রচিত হয় আধুনিক বিজ্ঞানের নতুন এক অধ্যায়। একই বছরের দোসরা নভেম্বর স্পুটনিক-২ নামের আরো একটি কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠায় রাশিয়া।
পরের বছর এক্সপ্লোরার-১ নামের একটি কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মধ্যদিয়ে মহাকাশ জয়ের দ্বিতীয় দেশের গৌরব অর্জন করে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পর ১৯৬৫ সালে মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে সক্ষম হয় ফ্রান্স। ১৯৭০ সালে একই গৌরব অর্জন করে জাপান।
ওই বছরেই ডং ফ্যাং হং-১ নামের কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠায় চীন। পরের বছর ব্ল্যাক অ্যারো রকেটে প্রোসপেরো এক্স-৩ নামের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে ব্রিটেন। এছাড়া, ১৯৮০ সালে রোহিনী নামের কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ যাত্রা শুরু করে প্রতিবেশী দেশ ভারত। বাংলাদেশের আগে সবশেষ এ তালিকায় যুক্ত হয় কোস্টারিকার নাম।
উইকিপিডিয়ার হিসেবে বলছে, ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৫০টিরো বেশি দেশ থেকে কয়েক হাজার স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। তবে পৃথিবীর মাত্র ১০টি দেশ নিজস্ব প্রযুক্তি ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাতে সক্ষম।
এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান, চীন, যুক্তরাজ্য, ভারত, ইসরাইল, ইউক্রেন এবং ইরান। বর্তমানে মহাকাশে সচল রয়েছে ১০ হাজারের বেশি স্যাটেলাইট। এর ৫০ ভাগই উৎক্ষেপণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম উপগ্রহের সঙ্গে রাশিয়ার একটি স্যাটেলাইটের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
দক্ষিণ এশিয়ায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের তালিকায় শীর্ষে ভারত। গেল বছর একদিনে ১০৪টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে ইতিহাস গড়ে দেশটি। এর আগে ২০১৪ সালে রাশিয়া এক সঙ্গে ৩৭টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছিল। এছাড়া, গেল বছর ৫ মে ''দক্ষিণ এশিয়া কৃত্রিম উপগ্রহ'' নামে একটি যৌথ প্রকল্পও শুরু করে ভারত।
যার অংশীদার, পাকিস্তান বাদে সার্কের বাকি সদস্য দেশগুলো। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তানের নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকলেও এখনও অনেক পিছিয়ে নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ এবং মিয়ানমার। বঙ্গবন্ধু/বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত প্রযুক্তির স্যাটেলাইটের মালিকানায় এখন বাংলাদেশ।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, তথ্যের আদান-প্রদান, সম্প্রচার, বিমান ও সমুদ্রগামী জাহাজের দিক নির্দেশনা এবং সামরিক কাজ তথা পরমাণু অস্ত্রের পর্যবেক্ষণ, রাডার নিয়ন্ত্রণ এবং শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে স্যাটেলাইটের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মহাশূন্যে পর্যটন
মহাশূন্যে পর্যটন বা মহাকাশ পর্যটন হলো বিনোদন, ভ্রমণ বা শখের বশে ব্যক্তিগত খরচে মহাকাশ ভ্রমণ করা । ২০০১ সালে ডেনিস টিটোর যাত্রার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই খাতটি বর্তমানে SpaceX, Blue Origin ও Virgin Galactic এর মতো কোম্পানিগুলোর সুবাদে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে । এটি প্রধানত অরবিটাল (কক্ষপথ), সাব-অরবিটাল ও চন্দ্র পর্যটন নামে পরিচিত ।
মহাশূন্যযানের নাম
মহাশূন্যযানের নাম | সাফল্যের প্রকৃতি |
স্পুটনিক-I Sputnik-I | মহাশূন্যযাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছে ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর। এই যাত্রার সূচনা করে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন মহাশূন্যে স্পুটনিক-১ নামক কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে। এটি মহাশূন্যে পাঠানো প্রথম কৃ ত্রিম উপগ্রহ। স্পুটনিক শব্দের অর্থ Fellow Travellers (ভ্রমণসঙ্গী)। |
স্পুটনিক-II Sputnik-II | জীবন্ত প্রাণী বহনকারী প্রথম মহাশূন্যযান। সোভিয়েত ইউনিয়ন নির্মিত এ মহাশূন্যযানের যাত্রী ছিল লাইকা (Laika) নামের একটি কুকুর। |
| স্কোর [Score] | মহাশূন্যে পাঠানো প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ। |
| লুনা-২ [Luna-2] | চন্দ্রপৃষ্ঠকে স্পর্শকারী প্রথম মহাশূন্যযান। |
| লুনা-৩ [Luna-3] | প্রথম উপগ্রহ যা চাঁদের অদৃশ্যমান অংশের ছবি পাঠায়। |
ভস্টক-১ Vostok-1 | মানুষ নিয়ে যাওয়া প্রথম মহাশূন্য যাত্রা। পৃথিবীর প্রথম মহাশূন্যচারী মানুষ হলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউরি গ্যাগারিন (Yuri Gagarin)। ১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল তিনি পৃথিবীকে পরিক্রমণ করেন। |
স্টক-৬ Stock-6 | প্রথম মহিলা মহাশূন্যচারীবাহী মহাশূন্যযান। এই মহিলা ছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেলানটিনা তেরেসকোভা (valentina tereshkova)। ১৯৬৩ সালের ৪ ডিসেম্বর তিনি মহাশূন্য যাত্রা করেন। |
ইনটেলসেট-১ Intelset-I | বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের জন্য পাঠানো প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ। পরবর্তীতে উপগ্রহটির নামকরণ করা হয় Early Bird. |
ভেনেরা-৩ Venera -3 | শুক্র গ্রহে অবতরণকারী প্রথম মহাশূন্যযান। ১৯৬৫ সালের ১৬ নভেম্বর এটি শুক্রগ্রহে অবতরণ করে। |
লুনা-১ Luna-9 | প্রথম সফলভাবে চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণকারী (Soft landing) মহাশূন্য অনুসন্ধানী যান। |
সয়োজ-৪ [Soyoge-4] | প্রথম পরীক্ষামূলক স্পেস স্টেশন। |
অ্যাপোলো-১১ Apollo-11 | অ্যাপোলো-১১ চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণকারী প্রথম মনুষ্যবাহী মহাকাশযান। এই অভিযানে অংশ নেন মার্কিন নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং, মাইকেল কলিন্স এবং এডুইন অল্ড্রিন। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই নীল আর্মস্ট্রং প্রথম মানব হিসেবে চন্দ্রপৃষ্ঠে পা রাখেন। এ সময় তিনি বিখ্যাত একটি মন্তব্য করেন, "This is a small step for (a) man but a giant leap for mankind". (এটি একটি মানুষের জন্য ক্ষুদ্র পদক্ষেপ কিন্তু মানব জাতির জন্য বিশাল অগ্রযাত্রা)। ২০১২ সালের ২৫ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। |
মারস-২ [Mars-2] | মঙ্গলগ্রহে অবতরণকারী প্রথম মহাশূন্য অনুসন্ধানী যান। (Space Probe) |
পায়োনিয়ার Pioneer | প্রথম মহাশূন্য অনুসন্ধানীযান যা বৃহস্পতি গ্রহে খুব নিকট হতে ছবি তুলতে সক্ষম হয়। |
ল্যান্ডসেট-১ Land set-1 | রিমোট সেনসিং বা দূর অনুধাবনের জন্য পাঠানো প্রথম উপগ্রহ। |
| অ্যাপোলো-সায়োজ টেস্ট প্রজেক্ট | আন্তর্জাতিক যোগসূত্র স্থাপনের জন্য মহাশূন্যে পাঠানো প্রথম উপগ্রহ। |
ভয়েজার Voyager | বৃহস্পাতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন এবং প্লুটোর কক্ষপথে প্রেরিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি মহাশূন্যযান। |
| ভাইকিং [Viking] | মঙ্গলগ্রহের উদ্দেশ্যে পাঠানো মার্কিন মহাশূন্য অনুসন্ধানী যান। |
| গ্যালিলিও [Galileo] | পৃথিবী থেকে পাঠানো বৃহস্পতির একটি কৃত্রিম উপগ্রহ। |
পাথ ফাইন্ডার Pathfinder | 'পাথ ফাইন্ডার' হল মঙ্গলগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রেরিত একটি মার্কিন নভোযান। 'পাথ ফাইন্ডারের সাথে পাঠানো রোবটের নাম 'সোজার্নার'। রোবটটিকে পাঠানো হয়েছিল মঙ্গলগ্রহের শিলারাশি পরীক্ষা ও চিত্র প্রেরণের জন্য। |
চন্দ্রযান-১ Chandrayaan-1 | প্রথম ভারতীয় চন্দ্রযান হিসাবে ২০০৮ সালের ১৪ নভেম্বর সফলভাবে চাঁদে অবতরণ করে। |
মহাশূন্যে প্রথম ……..
প্রথম মহাশূন্যচারী | মানব | মানবী |
| নাম | ইউরি গ্যাগারিন | ভেলেনাটনা তেরেসকোভা |
| দেশ | সোভিয়েত ইউনিয়ন | সোভিয়েত ইউনিয়ন |
| মহাশূন্যযানের নাম | ভস্টক-১ | ভস্টক-৬ |
| সময়কাল | ১২ এপ্রিল, ১৯৬১ | ৪ ডিসেম্বর, ১৯৬৩ |
মহাকাশ গবেষণা সংস্থা
National Aeronautics and Space Administration (NASA)
Introduction ভূমিকা | US Space Research Research Agency মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা |
| Formed (প্রতিষ্ঠাকাল) | 29 July, 1958 |
Headquarters সদর দপ্তর | Washington DC, USA ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র |
Rocket launch site উৎক্ষেপণ কেন্দ্র | Cape Canaveral, Florida ফ্লোরিডার কেপ ক্যানভেরালে (পূর্ব নাম কেপ কেনেডি) |
European Space Agency (ESA)
| পরিচিতি | ইউরোপের ১৮টি দেশের সম্মিলিত মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। |
| Formed (প্রতিষ্ঠাকাল | 1975 AD. |
| Headquarters (সদর দপ্তর) | Paris, France প্যারিস, ফ্রান্স। |
| Membership (সদস্যপদ) | ২৩টি ইউরোপীয় দেশ ESA-এর সদস্য রাষ্ট্রসমূহ (২৩টি): |